রকিবুস সুলতান মানিক বাবুখাঁ গ্রামের এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে ১৬ মার্চ ১৯৫৯ সালে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম রফিকুল ইসলাম, মাতার নাম রজমন নেছা। তিনি ১৯৭২ সালে বাবুখাঁ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাইমারী শিক্ষা অর্জন করেন। সেইসাথে বাবুখাঁ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর সর্বপ্রথম ৫ম শ্রেণীতে বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৭৯ সালে রংপুর কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করেন। অতপর তিনি ১৯৮১ সালে কারমাইকেল কলেজ,রংপুর হতে এইচ.এস.সি, ১৯৮৬ সালে স্নাতক ও ১৯৮৮ সালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এক্সিকিউটিভ পদে ঢাকায় প্রথম চাকুরীতে যোগদান করেন। তিনি র্যাংগস ইলেক্ট্রনিকস লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে ২০২২ সালে অবসর গ্রহন করেন।
তিনি বর্তমানে রংপুরের স্টেশন রোড সনি র্যাংগস ইলেক্ট্রনিকস লিমিটেডের শো-রুমের ওনার হিসেবে ব্যাবসা পরিচালনা করছেন।
তিনি কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কাউট লিডার ছিলেন। কারমাইকেল কলেজে এসে কারমাইকেল কলেজ ১৯৮২ ছাত্র সংসদ- নির্বাচনে ক্যাম্পাসে উপস্থিত না থেকেও জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের প্যানেলে সহ নাট্য সম্পাদক হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ছাত্র সংসদের ভারপ্রাপ্ত নাট্য ও বিশ্রামাগার সম্পাদক মনোনীত হন এবং কারমাইকেল কলেজের র্সবপ্রথম ক্যাডেট আন্ডার অফিসার (সিইও),বাংলাদেশ জাতীয় ক্যাডেট কোর-২, মহাস্থান ব্যাটেলিয়ন মনোনীত হন।
তিনি ১৯৮৬ সালে বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, কারমাইকেল কলেজে রানার্স আপ হবার গৌরব অর্জন করেন।
১৯৮৭ কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ছাত্র সমাজের প্যানেলে ভিপি নির্বাচন করে সামান্য ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত হন। তিনি জাতীয় ছাত্র সমাজের রংপুর জেলা কমিটির সর্বপ্রথম আহ্বায়ক ছিলেন।
১৯৮৮ সালে মরহুম রাষ্ট্রপতি এরশাদ সাহেব ছাত্র রাজনীতি সারা দেশে বন্দ করে দিলে তিনি রাজনীতি চিরতরে ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় চাকরীতে যোগদান করেন। তাছাড়াও তিনি একজন কবি। কবি হিসেবে তিনি ১৯৯৩ সালে একুশে বইমেলা উপলক্ষে ‘দুজনায়’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।
তিনি সাবেক সভাপতি, বাবুখাঁ টাইগার্স ব্যায়ামাগার। ‘সুন্দর পৃথিবীর জন্য আমরা’-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গঠিত এই ব্যায়ামাগারে প্রতি বছর গ্রামে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই সংগঠনের উদ্যোগে জাতীয় দিবসগুলোতে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহন করেন অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি বাবুখাঁ জেহাদী কাফেলার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন। তিনি কারমাইকেল কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির ১৯৯১-১৯৯২ সালে সাবেক শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ১৯৯৩-১৯৯৪ সালে সাবকে সমাজকল্যাণ ও সমবায় সম্পাদক ছিলেন। গত ৫ বছর ধরে সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকাস্থ রংপুর জেলা সমিতির নির্বাহী কমিটির বর্তমান সহ-সভাপতি মনোনীত হন। ,
১৯ জুন ১৯৮৫ সালে রংপুরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কতিপয় দুস্কৃতিকারী দ্বারা অন্যায়ভাবে টাকা ও মালামাল নেয়ার সময়ে জীবন বাজি রেখে সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সাহসিকতার পুরস্কার স্বরূপ তাঁকে ১৯৮৫ সালে কারমাইকেল কলেজ স্টাফ কাউন্সিল,বিএনসিসি ও ছাত্র সংসদ কর্তৃক রৌপ্য পদক সহ বিভিন্ন পুরস্কার এবং সম্মাননা প্রদান করা হয়।
তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকায় (জাতীয় ছাত্রসমাজের আহবায়ক হিসেবে সক্রিয় আন্দোলনের ফলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জনাব হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের কাছ থকেে কলজেরে ছাত্র/ছাত্রীদরে পরিবহনের জন্য ২টি নতুন বাস প্রাপ্তি সম্ভব হয়। কলেজের ছাত্রীদরে আবাসনরে কোনো ব্যবস্থা না থাকায়, ১৯৮৬-১৯৮৮ সক্রিয় আন্দোলনরে কারণে ৮০ দশকরে শেশের দকিে প্রথম ছাত্রী নিবাস (ছাত্রীদরে হোস্টলে) বরাদ্দ ও তৈরী হয়।
তিনি ৩ মে ১৯৯১ সালে তাজহাট,রংপুর নিবাসী আফছার আলী ও বেগম রিজিয়া খাতুনের কন্যা রেহেনা খাতুনের সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্ত্রী ড. রেহেনা খাতুন বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের ১৬ তম ব্যাচ ছিলেন। তিনি প্রথম রংপুর কলেজে প্রভাষক,প্রাণিবিদ্যা বিভাগে যোগদান করেন। পরবর্তীতে এনসিটিবি,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও মাউশি অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ কারমাইকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ থেকে ২০২৫ খ্রিঃ ৩ মার্চ পিআরএল যান। তিনি ১৬ বিসিএস ফোরামেন মহাসচিব এবং
ঢাকা অফিসার্স ক্লাব, বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি, রংপুর জেলা সমিতি, কারমাইকেল কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতি,ঢাকাস্থ উল্টরবঙ্গ জনকল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন। সংসার জীবনে তিনি এক ছেলে রাহবার ই-আলম রাফা (সিনিয়র সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার, ইন্ডিয়ানা পলিস, আমেরিকায় কর্মরত), ও এক মেয়ে নূরেন লাবিবা রাইসা (,নর্থ-সাউথ ইউনির্ভাসিটি,ঢাকা থেকে স্নাতক শেষ করে ঢাকায় চাকরী করছেন ) এর গর্বিত জনক।
স্বাধীনতার ৪০ বছর পুর্তি উপলক্ষে বাবুখাঁ স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি বাবুখাঁর নতুন প্রজন্মকে শিক্ষায় উৎসাহী করার লক্ষ্যে বাবুখাঁ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত প্রত্যককে পাঁচ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড বা সমমানের পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেন ।
তিনি সস্ত্রীক ২০২২ সালে পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন। তিনি ২০০০-২০২০ পর্যন্ত প্রতি বছর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক টার্গেট/লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ায় বিশেষ ইনসেনটিভ ও সার্টিফিকেট অর্জন করেন। তিনি সনি র্যাংগস ইলেক্ট্রনিকস লিমিটেড থেকে ‘ইমপ্লোই অব দি ইয়ার-২০১৫ মনোনীত হন। তিনি পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমন করেন তম্মধ্যে ভারত, সিংগাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও জার্মানী সপরিবারে ভ্রমন করেন। মহান আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা দান করুন।
মন্তব্য করুন